অতন্দ্রিলা,

জানি ঘুমিয়ে আছ

তাই চুপি চুপি তোমায় ছুঁই

তুমি জানো?

-জলের নির্ঝরে রুদ্র দিন শেষে-

বুকের উনন জুড়ে ছায়াজয়ী সঙ্গী তুমি-আমি…
অধিকাংশ পাঠকের ভাবনা পড়া যাচ্ছে এই মুহূর্তে। “চেনা চেনা লাগে, তবু অচেনা!” নয়?

হ্যাঁ, এটি কবি অমিয় চক্রবর্তীর অসাধারণ একটি কবিতা “রাত্রি” এর একপ্রকারের রিমেক, বিপরীতও বলা যেতে পারে। অমিয় চক্রবর্তীর অতন্দ্রিলা আক্ষরিক অর্থেই অতন্দ্র ছিল, আর এখানে কবির অতন্দ্রিলা ঘুমিয়ে আছে। তাতে যদি একটু ছুঁয়ে দেয়া যায়, আরেকটি অনিন্দ্য কাব্যের সৃষ্টি হয়… ক্ষতি কি!

তবে শুধু ছুঁয়েই নয়, অতন্দ্রিলাকে ঘিরে কাব্যের সৃষ্টি পুরো গল্পটাকেই একরকম ঘিরে রেখেছে। গল্পের নায়ক একজন কবি, পাশাপাশি গল্পও লেখে এবং কবি হতে না পারার সহজ স্বীকারোক্তি থেকে নিজেকে গল্পকার বলেই পরিচয় দিয়ে থাকে সে। মাতৃবিয়োগের পর যে তার মন্ত্রী বাবার দ্বিতীয় বিয়ের প্রতি আশ্চর্য অভিমান নিয়ে আলাদা হয়ে গেছে সবকিছু ছেড়ে। হারানোর খেলায় পাওয়া হিসেবে ছিল শুধু ‘অতন্দ্রিলা।’ প্রথম নাটুকে দেখা, কাব্যের জালে গড়ে ওঠা সম্পর্ক, প্রেমময় সব রহস্য ঘিরে নিতান্ত সুন্দর একটি ভালোবাসার গল্প।

12625694_1065226636873606_102463236_n

গল্পে আরও ছিল কবির খেয়ালি জীবনযাপনের হঠাৎ-সঙ্গী ‘রংবাজ’, ভালোবাসার আকাল আর দশটি পথশিশুদের একটি। ছিল উদাসীনতার আড়ালে মায়া লুকিয়ে ফেরা সাদিক ভাই, জাভেদ ভাই। নাম দিয়েই নিজেকে চেনানো ছোট্ট ছেলে ‘শুভ্র’ এর পবিত্রতা। এতোসব মায়ার বাঁধন, বাবার সাথের আবদারসুলভ স্মৃতিগুলোর নিরন্তর ফিরে আসা, নতুন মায়ের অসীম মমতা কি ঘরে ফেরাতে পেরেছিল কবিকে? পরিশেষে মিথ্যে মামলার জালে জড়িয়ে পড়া কবি কি ফিরতে পেরেছিল অতন্দ্রিলার কাছে?

প্রশ্নের উত্তর পেতে অবশ্য এবারের “বইমেলা-২০১৬” তে প্রকাশিত ইকবাল মাহমুদ ইকু’র প্রথম উপন্যাস “নীলান্ত জোছনায়” এর পাতা উল্টাতে হবে আপনাকে। কবির তথা গল্পের নায়কের নামের ক্ষেত্রেও একটি টুইস্ট আছে যেটি আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না এই মুহূর্তে। দুঃখজনকভাবে, সেটিও পাতা উল্টে বের করতে হচ্ছে আপনাকে।

উল্টেপাল্টে ফেলার প্রতি আগ্রহবোধ তৈরি করার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছি বইটায়। সবচে’ ভালো লেগেছে অতন্দ্রিলার জন্য নিমেষেই কবির লিখে ফেলা একেকটি কবিতা… ভিন্নতা এবং সৌন্দর্য যেটি বাড়িয়ে দিয়েছে বিস্তর।

অতন্দ্রিলা,

স্পর্শহীন কিছু মৌনতায় এসো ডুবে যাই

–জন্মনীল তোমার চোখে কত ছায়া,

নিভে যাক আলো- তুমি আমি এই নিবিড় সন্ধ্যায়-

ঘনমেঘ জুড়ে তীব্র, তবু স্পর্শহীন…!

অনুভূতির ওঠানামা ছিল বইয়ের পুরো সময় জুড়েই। প্রেম আর কাব্যের ছোঁয়ায় তবু মুগ্ধতাকে এতোটুকু সরতে দেননি লেখক। আগে থেকেই ইকবাল মাহমুদ ইকু’র লেখার গুণমুগ্ধ পাঠক হয়ে আছি অনলাইনে থাকার সুবাদে, বর্তমান তরুণ সাহিত্যিকদের অধিকাংশের মত তার লেখালেখির শুরুটা অনলাইনেই ছিল। গত বছরের বইমেলায় প্রকাশিত হয় প্রথম বই, আরও তিনজন গল্পকারের সাথে গল্প সংকলন “চতুর্ভুজ।” এই বইমেলায় প্রকাশিত রোমান্টিক উপন্যাস “নীলান্ত জোছনায়” ইকবাল মাহমুদ ইকু’র প্রথম একক বই। প্রথম বই হিসেবে প্রত্যাশার পূরণে কমতি হয়নি- এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। আশাবাদী প্রতীক্ষায় রইলাম পরবর্তীতে আরও বইয়ের জন্য… আর শুভকামনা রইলো লেখকের জন্য। শুভকামনা রইলো “নীলান্ত জোছনায়” এর জন্যেও।