লোকসমাগম এবং বেচাকেনা— দুটিই কম। প্রথম দুই দিনের চেয়ে গতকাল সোমবার বিকেলে হঠাৎ করেই অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে নিষ্প্রভই মনে হলো। তবে এটা নিয়ে প্রকাশকেরা মোটেও বিচলিত নন। অমর একুশে গ্রন্থমেলার তৃতীয় দিনে প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এটাই রীতি। ক্রেতারা প্রথম সপ্তাহটা বই দেখে এবং আরও কী কী বই আসবে, সেই খোঁজখবর নেন। নতুন বইও খুব বেশি আসেনি।

বইমেলা ২০১৪_amrajaraboipori
গত শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন। সেদিন ছুটি এবং উদ্বোধনের ডামাডোল ছিল বলে জনসমাগম বেশি ছিল। পরদিনও লোক-সমাগম নেহাত কম হয়নি। তবে গতকালের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। সন্ধ্যায় কিছু মানুষ দেখা গেলেও বিকেলটা ছিল একেবারেই নিষপ্রাণ। প্রকাশকেরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক অনুপম প্রকাশনীর কর্ণধার মিলন কান্তিনাথ বলেন, ‘আমি মনে করছি, আগামী শুক্রবার থেকে একুশে গ্রন্থমেলা তার আসল রূপে ফিরবে। প্রকাশকেরা এখন মেলায় বই আনার কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত। বেচাকেনা হিসাব-নিকাশ করার সময় এখনো আসেনি।’
অবশ্য অনেক প্রকাশনা সংস্থা নতুন বই আনার বিষয়ে আরও ধীর চলো নীতি অবলম্বন করছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যর আরিফুর রহমান জানান, এবারের গ্রন্থমেলায় ৯০টির মতো নতুন বই আনার পরিকল্পনা থাকলেও গতকাল প্রথমবারের মতো বই স্টলে এনেছেন। মেলার মাঝামাঝি সময়ে পুরোদমে বই আনবেন তাঁরা।
ধুলা নেই, কাদা আছে: আগের দুই দিন মেলায় ধুলার আধিক্য ছিল। একাডেমি প্রাঙ্গণ কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান—দুই জায়গাতেই মেলায় আসা লোকজনকে ধুলাবালি নিয়ে বিরক্ত হতে দেখা গেছে। পাশাপাশি মেলায় রোববারও কিছু স্টল বন্ধ থাকা, নির্মাণকাজের ঠোকাঠুকিসহ বেশ কিছু অসংগতি ছিল। কিন্তু গতকাল প্রায় সব অসংগতি দূর করে পরিপাটি রূপ ধারণ করেছে মেলা। বন্ধ স্টলগুলো খুলে গেছে। সেখানেও চলছে বই বিক্রি। সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রকাশকেরাও। মেলার দুটি অংশের খোলা প্রান্তরে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত পানি। এতে ধুলাবালি কমেছে; তবে কোথাও কোথাও জমেছে কাদা।
এ ছাড়া গতকালও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে মেলায় আসা লোকজন, বিশেষ করে নারীদের এবং স্টলে কর্মরত ব্যক্তিদের বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
নতুন বই ও মোড়ক উন্মোচন: মেলায় প্রথমা প্রকাশন থেকে এসেছে কুর্রাতুল-আইন-তাহিমনার চর্চা করুন, খবর লিখুন বইটি। হাতে-কলমে সাংবাদিকতাচর্চার জন্য অনেক পরামর্শ আছে এই বইয়ে। গতকাল অজয় দাশগুপ্তের একাত্তরের ৭১ শীর্ষক প্রবন্ধগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রমুখ। বইটি প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী।
একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ গতকাল তৃতীয় দিনে ৬০টি নতুন বই মেলায় আসার কথা জানিয়েছে। কাব্যগ্রন্থ ১৩, উপন্যাস নয়, গল্প আট, ভ্রমণসাহিত্য ছয়, প্রবন্ধ পাঁচ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চার ও ধর্মীয় বই তিনটি। এর মধ্যে অনুপম প্রকাশনী এনেছে দ্বিজেন শর্মার আমার একাত্তর ও অন্যান্য, অন্যপ্রকাশ এনেছে সৈয়দ শামসুল হকের অর্পিত পদাবলী, উৎস প্রকাশন আনে শাকুর মজিদের মালয় থেকে সিংহপুরী, ঐতিহ্য এনেছে সাজ্জাদ হুসাইনের ঘৃণা ইত্যাদি।
মেলামঞ্চের আয়োজন: বিকেলে একাডেমি প্রাঙ্গণে মেলার মূল মঞ্চে ছিল আলোচনা অনুষ্ঠান, সন্ধ্যায় ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। আলোচনা পর্বে দর্শকের উপস্থিতি নগণ্য হলেও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক পর্বে উল্লেখযোগ্য দর্শকের উপস্থিতি দেখা গেল।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী ঝর্ণা আলমগীর, হায়দার হোসেন, আজগর আলীম, খগেন্দ্রনাথ সরকার প্রমুখ।

সূত্র:প্রথম আলো