প্রতীক্ষা ফুরাল- এলো বাঙালির প্রাণের অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এবার নতুন আবহে শুরু হচ্ছে এ প্রাণের উৎসব। বাংলা একাডেমি চত্বরসহ আশপাশের গোটা এলাকায় এখন সাজসাজ রব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে দোয়েল চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের সর্বত্র এখন উৎসবের আবহ। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ ভেঙে এবারই বইমেলা শুরু হচ্ছে নতুন আবহে, নতুন আঙ্গিকে। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় বইমেলার দ্বার উদ্ঘাটন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরাবরের মতোই মেলার আয়োজক বাঙালির জ্ঞান ও মননের প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। এবারের মেলা উৎসর্গ করা হচ্ছে ভাষাসৈনিক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে।

bookfair_amrajaraboipori
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে তিনি মেলা পরিদর্শন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। স্বাগত ভাষণ দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক ইমেরিটাস আনিসুজ্জামান।

এদিকে, অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী উদ্বোধনের আগের দিন শুক্রবার মেলার সার্বিক বিষয় সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এ সময় জানানো হয়, আজ বেলা তিনটায় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকে শুরু হবে মেলা। তবে একুশে ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে সকাল আটটা থেকে।

মেলার সার্বিক দিক নিয়ে একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা বাঙালির বৃহত্তম জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে সৃজনশীলতার একটি স্থান হিসেবেও দাঁড়িয়ে গেছে এ মেলা। তাই বিশ্বের দীর্ঘতম এই বইমেলার পরিসর বাড়ানো সময়ের দাবি হয়ে উঠেছিল বলেই এবার মেলাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানান্তর করা হয়েছে। একাডেমি সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রন্থমেলায় মোট ২৯৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৩৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশেই রয়েছে মূলধারার প্রকাশনা সংস্থাগুলো। উদ্যানে ২৩২টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪৩২টি ইউনিট বরাদ্দ করা হয়েছে।