niaz-zaman
আমরা যারা লেখালেখি করি তারা কেউ পুরস্কারের জন্য করি না। তবে পুরস্কার পেলে ভালো লাগে। আমি নারীর দৃষ্টি দিয়ে কখনো লিখিনি। কারণ সৃষ্টিশীলতার কোনো লিঙ্গভেদ নেই।

বলছিলেন কথাসাহিত্যিক নিয়াজ জামান। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য এবছর অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার পেলেন তিনি। আজ শুক্রবার বেঙ্গল গ্যালারিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। পুরস্কার হিসেবে ছিল ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও উত্তরীয়। পাক্ষিক অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও ফেরদৌস আজিম। পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় নিয়াজ জামান আরও বলেন, আমি খুবই আনন্দিত। ভাবিনি এ পুরস্কার পাব। অনন্যাকে ধন্যবাদ।

আয়োজকরা জানান, অনন্যা ২০ বছর আগে বাংলা ১৪০১ সাল থেকে এ সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর একজন কৃতী নারী সাহিত্যিক বা গবেষককে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সেলিনা হোসেন বলেন, বিজয়ের মাসে এই পুরস্কার। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের। নিয়াজ জামানের কাজের পরিধি বিশাল। তিনি উর্দুভাষী হয়েও বাংলা ভাষাকে জড়িয়ে ধরেছেন পরম মমতায়, শিখিয়েছেন সন্তানদের। যোগ্য ব্যক্তিকেই এ পুরস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়িত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ গানটি পরিবেশন করেন অমিত আচার্য। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে দুটি রবীন্দ্রসংগীত ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ ও ‘তোমার খোলা হাওয়া’ গেয়ে শোনান তানিয়া মান্নান এবং হেলাল হাফিজের কবিতা ‘একটি পতাকা পেলে’ ও নিয়াজ জামানের কবিতা ‘কাবুলিওয়ালা’ আবৃত্তি করেন সাদিয়া ফেরদৌসী।

নিয়াজ জামানের জন্ম ১৯৪১ সালে, ভারতের দিল্লিতে। তিনি মূলত ইংরেজিতে লেখালেখি করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হলো ‘দ্য ক্রুক্‌ড নিম ট্রি’, ‘আন্ডার দ্য কৃষ্ণচূড়া’, ‘ডিফারেন্ট সীতা’, ‘রাইজিং ফ্রম দ্য অ্যাশেজ’, ‘অ্যা ডিভাইডেড লিগ্যাসি’ প্রভৃতি। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ‘নিউ এজ’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। গড়ে তুলেছেন বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে নারী লেখকদের ব্যতিক্রমী সংগঠন ‘গাঁথা’।

সূত্র:সহায়ক এক