হুমায়ূন আহমেদ শুধু বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখকই নন, সন্তানদের কাছেও তিনি একজন মহাপুরুষ। হুমায়ূনের মৃত্যুশোক এখনো যেমন তার পাঠকরা ভোলেননি, তেমনি বাবার মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি হুমায়ূনের দুই শিশুপুত্র নিষাদ ও নিনিত। ভক্ত সমাজের মতোই নিষাদ আর নিনিতকে নিয়ে অকস্মাৎ গভীর শূন্যতায় পড়েছেন হুমায়ূনের স্ত্রী শাওন। তাই রোববার বাবা দিবসের প্রথম প্রহরে হুমায়ূনের প্রিয় ছেলে নিষাদের পিতৃশূন্য যাপন নিয়ে শাওন  লিখেছেন ‘নিষাদনামা’। বাবা দিবসে বাংলামেইলের পাঠকদের জন্য তা প্রকাশ করা হলো।

নিষাদনামা
মেহের আফরোজ শাওন

ট্যানটা বাবা নিষাদের কয়েকদিন আগে জ্বর হয়েছিল। খুব জ্বর। ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রির মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছিল। সারাদিন মাথায় পানি আর গা স্পঞ্জ… সঙ্গে ওষুধতো আছেই। জ্বরের তৃতীয় দিন হঠাৎ শুনলাম সে নিচুগলায় বুয়াকে বলছে, ‘জানো খালা ছোটবেলায় যখন আমার জ্বর হতো, তখন বাবা আমাকে সারাক্ষণ কোলে নিয়ে থাকত, আমাকে জোর করে কিছু খাওয়াতই না।’

আমি একফোঁটা চোখের পানিও ফেললাম না। নিষাদের কপালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললাম, ‘নিষাদের বাবা… তুমি তোমার ট্যানটার জ্বর ভালো করে দাও…।’

পরদিন সকালে সম্পূর্ণ জ্বরমুক্ত অবস্থায় নিষাদের ঘুম ভাঙল।

‘মা জানো আমি না বাবাকে স্বপ্নে…

‘কী দেখেছ বাবা?’

‘আমাকে আর নিনিতকে কোলে নিয়ে বাবা গল্প শোনাচ্ছে’

‘তাইতো বলি নিষাদের জ্বর কোথায় গেল!!! মনে হয় তোমার বাবা স্বপ্নে এসে তোমার জ্বর নিয়ে গেছে।’

তার বাবাকে নিয়ে এইরকম সব কথা হয় আমার আর নিষাদের মধ্যে…। ‘জন্মদিনে বাবা কীভাবে গিফট পাঠাবে?’ ‘নিনিত কি এখন তোমাকে ওর বাবা মনে করে?’ তার এমনসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে খুঁজে বের করি… আর কিছু প্রশ্নের উত্তর নিষাদ নিজেই খুঁজে নেয়। যেমন আজ সে তার বন্ধুদের বাবার জন্য গিফট কিনতে দেখে নিজে নিজেই তার বাবার জন্য উপহার তৈরি করল। তারপর দেখি সেটা পাশে নিয়ে ঘুমাত। আমি যখন বললাম, ‘নিষাদ গিফটটা বাবার লেখার টেবিলে রেখে দাও, বাবা খুশি হবে।’ তখন ও জবাব দিল, ‘ওইখানে রাখলে কি বাবা দেখবে? বাবাতো রাত্রেবেলা আমাকে আদর করতে আসবে, তখন এই গিফটটা দেখবে। মা তুমি কিচ্ছুই জান না…।’

হ্যাঁ বাবা, আমি আসলেই কিচ্ছু জানি না…

উৎস:সহায়ক